১৩ বছর পর ঢাকা-করাচি ফ্লাইট চালু: কঠোর শর্তে পাকিস্তানের অনুমতি

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৩ বছরের বিরতি ভেঙে অবশেষে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট। পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘সামা নিউজ’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর সিএএ (CAA) বিমান বাংলাদেশকে এই সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের আকাশপথে যোগাযোগের দীর্ঘদিনের অচলায়তন কাটতে যাচ্ছে।
কঠোর শর্ত ও সময়সীমা
ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিলেও পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সিএএ-র নির্দেশনা অনুযায়ী:
রুট ম্যাপ: বিমান বাংলাদেশকে যে রুটে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। রুটের কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।
আগাম তথ্য: ঢাকা থেকে ফ্লাইট উড্ডয়নের আগেই করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে।
নিরাপত্তা: অপারেশনাল সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়াদ ও স্লট বরাদ্দ
সামা নিউজের তথ্য মতে, প্রাথমিক অবস্থায় এই অনুমোদন আগামী বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমোদনের মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এছাড়া করাচি বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আলাদা একটি ‘স্লট’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে।
কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয় দেশের জনগণের জন্যই তা লাভজনক হবে। এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ ছিল। যাত্রীদের তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যাতায়াত করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক





