তারেকের আগমনে রেকর্ড! ঢাকায় ঢুকল ১ কোটি ১০ লাখ সিম

আজ ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন। সাধারণত ঈদের মতো বড় ছুটির দিনে ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে ফেরে। কিন্তু আজ চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ছুটির দিনে ফাঁকা হওয়ার বদলে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছে এক বিশাল জনসমুদ্রে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকায়। এই বিপুল জনসমাগমের প্রমাণ মিলেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যানেও। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই একটি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি (১১ মিলিয়ন) সিম ঢাকার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড।
বিটিআরসির চাঞ্চল্যকর তথ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সারা দেশে সচল সিমগুলোর মুভমেন্ট ট্র্যাকিংয়ে অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে। তিনি বলেন, "সাধারণত ছুটিতে ১৭-২০ লাখ সিম ঢাকার বাইরে যায়। আজও প্রায় ১৭ লাখ সিম ঢাকা ছেড়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকায় প্রবেশ করেছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বাইরের সিম। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে রবি ও বাংলালিংক।"
যদিও এক ব্যক্তির একাধিক সিম থাকতে পারে, তবু এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে রাজধানীতে অন্তত কয়েক লাখ মানুষের অতিরিক্ত সমাগম ঘটেছে, যা শহরের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ও ভোগান্তি অতিরিক্ত সিমের চাপে বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বসুন্ধরা ৩০০ ফিট এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে। ভয়েস কল ড্রপ করছে এবং মোবাইল ডেটা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
খিলক্ষেতের এক বাসিন্দা জানান, "সকাল থেকে ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে কল করা যাচ্ছে না, বাইরে থেকেও কেউ কল করলে ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হচ্ছে।"
৩০০ ফিট নাকি ‘কক্সবাজার’! সরেজমিনে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। চট্টগ্রাম থেকে আসা এক যুবদল নেতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "ঢাকা যেন আজ মানুষের কক্সবাজারে পরিণত হয়েছে! যেদিকে তাকাই শুধু মানুষ আর মানুষ। আমরা একসঙ্গে গ্রুপ করে এসেছিলাম, কিন্তু ভিড়ের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় কাউকে খুঁজেও পাচ্ছি না।"
উপস্থিত নেতাকর্মীদের দাবি, ৩০০ ফিট এলাকায় কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এভারকেয়ারে নিরাপত্তা জোরদার এদিকে, দেশে ফিরেই তারেক রহমান তার অসুস্থ মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ছুটির দিনেও রাজনীতির মাঠে এমন উত্তাপ এবং প্রযুক্তির পরিসংখ্যানে এমন রেকর্ড—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ঢাকার ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকছে।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা




