বাংলাদেশকে গাজা বানাতে ভারতকে উসকানি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও উসকানিমূলক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিলেন রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এবার তিনি সরাসরি ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনের উদাহরণ টেনে ভারতের সরকারকে বাংলাদেশেও একই ধরনের ‘শিক্ষা’ দেওয়ার বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামক এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু এই নজিরবিহীন মন্তব্য করেন।
কী বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী?
ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক সেই কায়দায় বাংলাদেশেও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শুভেন্দু। তিনি অতীতের একটি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন:
"এই লোকদের অবশ্যই একটা শিক্ষা দিতে হবে। ঠিক যেমনটা ইসরায়েল গাজাকে দিয়েছে। আমাদের সরকার হিন্দু এবং দেশের স্বার্থে কাজ করছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ আমরা যেভাবে পাকিস্তানকে শিক্ষা দিয়েছিলাম, ঠিক তেমনি একটা শিক্ষা তাদেরও দিতে হবে।"
এর আগেও শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন।
তৃণমূলের কড়া প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতার এমন লাগামহীন ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী দাবি করেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট টানতেই বিজেপি বাংলাদেশ ইস্যু এবং ধর্মকে ব্যবহার করছে।
শুভেন্দুর মন্তব্যের জবাবে অভিষেক ব্যানার্জী বলেন:
"বলা হচ্ছে ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কুরুচিকর মন্তব্য করেছে। কিন্তু তার তো কোনো ক্লিপিংস বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পাওয়া যায়নি। পুরোটাই শোনা কথার (Hearsay) ভিত্তিতে রটানো হচ্ছে। এগুলো নিয়ে কারা রাজনীতি করছে? বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক শ্রেণি করছে আর ভারতবর্ষে এবং বাংলায় বিজেপি করছে।"
খোদ ভারতেও সমালোচনার ঝড়
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর খোদ ভারতীয়রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেবল মুসলিমরা নন, ভারতের অনেক হিন্দু নাগরিক এবং বিশিষ্টজনেরাও শুভেন্দুর এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একটি প্রতিবেশী স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদের কাজ হতে পারে না।
নেটিজেনদের অনেকেই এই কট্টরপন্থী নেতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, ভোটের লোভে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক




