‘সমর্থকের স্বাক্ষর জটিলতা’: কেন বাতিল হলো তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র?

ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ বলে রায় দেন।
মনোনয়ন বাতিলের মূল কারণ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছে কমিশন। তবে তাসনিম জারা জানিয়েছেন, এই গরমিল মূলত সীমানা জটিলতা ও নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ আপডেট সংক্রান্ত বিভ্রান্তির কারণে হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
বাতিলের কারণ ও জারার ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। তাসনিম জারা জানান, তিনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। কমিশন সেখান থেকে ১০ জন ভোটারের তথ্য দৈবচয়ন ভিত্তিতে যাচাই করে। এর মধ্যে ৮ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও ২ জনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।
তাসনিম জারা সাংবাদিকদের কাছে সেই ২ জন ভোটারের ‘ত্রুটি’র ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
১ম ভোটার (সীমানা জটিলতা): ওই ভোটারের বাসা খিলগাঁওয়ে। এই এলাকার একাংশ ঢাকা-৯ এবং অন্য অংশ ঢাকা-১১ আসনে পড়েছে। ভোটার জানতেন তিনি ঢাকা-৯ এর বাসিন্দা, কিন্তু ইসির ম্যাপ অনুযায়ী তিনি ঢাকা-১১ এর অন্তর্ভুক্ত।
২য় ভোটার (ডাটাবেজ সমস্যা): ওই ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) ঠিকানা ঢাকা-৯ উল্লেখ আছে। তিনি কয়েক বছর আগে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য শরীয়তপুরে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনো আপডেট পাননি। অথচ ইসির অনলাইন ডাটাবেজে তাকে শরীয়তপুরের ভোটার দেখানো হচ্ছে, যা ওই ভোটার নিজেও জানতেন না।
ইসির সিস্টেম নিয়ে অভিযোগ
তাসনিম জারা অভিযোগ করে বলেন, "দুজনের জানার কোনো উপায় ছিল না তারা আসলে বর্তমানে কোন আসনের ভোটার। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই তাদের নির্বাচনী এলাকা বা হালনাগাদ তথ্য জানতে পারে, নির্বাচন কমিশন এমন কোনো উন্মুক্ত ব্যবস্থা রাখেনি।"
পরবর্তী পদক্ষেপ ও নির্বাচনের সময়সূচি
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর হতাশ না হয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন এই তরুণ নেত্রী। তিনি বলেন, "আপিলের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে আমরা শুরু করেছি।"
তফসিল অনুযায়ী:
বাছাই শেষ: ৪ জানুয়ারি।
আপিল দায়ের: ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি।
ভোটগ্রহণ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট)।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা





