ভোটের মাঠে আতঙ্ক: আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান পাবেন ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থীরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি ও বিএনপি প্রার্থী এরশাদউল্লাহর ওপর গুলিবর্ষণের পর নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও ভাবছেন। এমতাবস্থায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন। জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রার্থীরা প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সসহ গানম্যান সুবিধা পাবেন।
হামলার প্রেক্ষাপট ও আতঙ্ক গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। এর আগে ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদউল্লাহও গুলিতে আহত হন।
এই দুই ঘটনার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, ‘আমার সিকিউরিটি কনসার্ন হচ্ছে আমার পরিবার। তাই আমি নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি।’
পুলিশের উদ্যোগ: ৩ ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদর দপ্তর তিনটি ক্যাটাগরি (অতিঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ) নির্ধারণ করেছে।
গানম্যান সুবিধা: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যারা ‘অতিঝুঁকিতে’ থাকবেন, তারা সার্বক্ষণিক গানম্যান পাবেন।
অগ্রাধিকার: এক্ষেত্রে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও হাই-প্রোফাইল প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
নিজস্ব দেহরক্ষী: প্রার্থীরা চাইলে নিজস্ব সশস্ত্র দেহরক্ষী রাখতে পারবেন। যাদের সেই সামর্থ্য নেই, পুলিশ তাদের দেহরক্ষী সরবরাহ করবে।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও দাবি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা:
এহসানুল হক মিলন (চাঁদপুর-১, বিএনপি): তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচন বানচালে ডিপস্টেট ও এক্সটারনাল ষড়যন্ত্র চলছে। আমার মনে হয়, একজন প্রার্থীর জন্য ৪ জন গানম্যানের ব্যবস্থা করা উচিত।’
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ময়মনসিংহ-১, বিএনপি): তিনি বলেন, ‘ভয় পেলে তো মুক্তিযুদ্ধ বা স্বৈরাচার পতন হতো না। শঙ্কা থাকলেও আমাদের কাজ করতে হবে।’
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-২, জামায়াত): তিনি বলেন, ‘জনসংযোগের ফাঁকে দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ নিতে পারে, এমন উদ্বেগ কাজ করছে। তবে প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে।’
সরকারের ভাষ্য নারায়ণগঞ্জের প্রার্থীর সরে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘নিরাপত্তা একটি বড় শব্দ। কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণে বা নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন না করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও মানুষের মনে সংশয় কাটছে না। ফ্যাসিবাদের দোসরদের তোষণ করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদক
Md Arif Mainuddin





