রাজনীতিজাতীয়

দেশে ফিরে মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান, শোনালেন ‘নিরাপদ বাংলাদেশের’ পরিকল্পনা

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমেই এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়— জুতো খুলে খালি পায়ে জন্মভূমির মাটি স্পর্শ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

এরপর বিমানবন্দর থেকে বিশাল জনসমুদ্র পাড়ি দিয়ে পূর্বাচল ৩,০০ ফিট এলাকার গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে দিলেন এক নতুন বার্তা। শোনালেন নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা।

বিমানবন্দরে আবেগঘন মুহূর্ত ও ড. ইউনূসকে ফোন বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন তার শাশুড়ি ও ডা. জুবাইদা রহমানের মা ইকবাল মান্দ বানু এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছে বিমানবন্দরে থাকা অবস্থাতেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে ফোন করেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানান।

জনসমুদ্রে ৩ ঘণ্টার যাত্রা বিমানবন্দর থেকে একটি বুলেটপ্রুফ বাসে চড়ে ৩,০০ ফিট এলাকার সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। মাত্র চার কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। বাসটির পুরো যাত্রাপথজুড়ে ছিল লাখো নেতাকর্মীর ঢল। বাসের সামনের অংশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তিনি নেতাকর্মীদের ভালোবাসার জবাব দেন।

ভাষণের মূল বার্তা: ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বিকেল ৩টার দিকে লাল গালিচা সংবর্ধনায় সিক্ত হয়ে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। প্রায় ১৭ মিনিটের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলেন। মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’-এর আদলে তিনি বলেন, "আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।"

তিনি বলেন, "উই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ থাকবে। পাহাড়ি হোক বা সমতলের, মুসলিম হোক বা অন্য ধর্মের—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"

সতর্কবার্তা ও শহীদের স্মরণ বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের যেকোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।"

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি-কে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। সে চেয়েছিল এই দেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাক। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে আমরা একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।"

তরুণদের প্রতি আহ্বান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ’৭৫-এর সিপাহী বিপ্লব, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আগামীতে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে।"

সবশেষে "সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ"—এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি তার ঐতিহাসিক বক্তব্য শেষ করেন। তারেক রহমানের এই বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ এবং দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

#তারেক রহমান#বিএনপি#তারেক রহমানের ভাষণ#স্বদেশ প্রত্যাবর্তন#নিরাপদ বাংলাদেশ#ড. মুহাম্মদ ইউনূস#ওসমান হাদি#মির্জা ফখরুল#রাজনীতির খবর#Tarique Rahman Return#BNP News#Bangladesh Politics

প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মতামত জানাও (0)

সকলের সাথে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন

মতামত জানাতে লগিন করুন

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই লগিন করতে পারেন

লোড হচ্ছে...