বাবার কবরের পথে তারেক রহমান, সাভারে লাখো মানুষের ঢল

বাবার কবরের পথে তারেক রহমান, সাভারে উৎসবের আমেজ
বাবার কবরের পথে তারেক রহমান, সাভারে উৎসবের আমেজ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পরপরই একটি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বুলেট প্রুফ বাসে চড়ে তিনি জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হন। বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
সাভারে উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক প্রস্তুতি তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে একনজক দেখার জন্য মহাসড়কের দুপাশে এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, "আজকের এই দিনে স্মৃতিসৌধ এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের গণজমায়েতের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ভিআইপি মুভমেন্ট এবং বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু নিশ্চিত করেছেন যে, শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, "নিরাপত্তায় যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে রয়েছি। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"
প্রেক্ষাপট: ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাকে বরণ করে নিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ সংলগ্ন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। বিমানবন্দর এলাকাটি আক্ষরিক অর্থেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বিকেলে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে (পূর্বের ৩০০ ফিট) আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজকের এই সফর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত আবেগের এবং দেশের রাজনীতির মাঠে নতুন বার্তা নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা





