সূর্যের দেখা নেই, এমন ঘন কুয়াশা থাকবে আরও কতদিন?

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে রাজধানীসহ সারা দেশ। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, আর হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেও রাজধানীর আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি, চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে আছে ঘন কুয়াশায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, যা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কেন এই তীব্র কুয়াশা?
হঠাৎ এই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা হিমেল হাওয়া বা ‘কোল্ড ওয়েভ’ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে। যখন দিন ও রাতের তাপমাত্রা কাছাকাছি চলে আসে, তখন শীতের অনুভূতি তীব্র হয় এবং কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কতদিন থাকবে এই অবস্থা?
কুয়াশার স্থায়িত্ব নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানিয়েছে, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই ঘন কুয়াশা আরও ৩ থেকে ৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এমনকি দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত এই কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যেতে পারে।
হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এদিকে শীতের দাপটে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
আগামী ২৪ ঘণ্টার সতর্কতা
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সড়ক ও নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে হাইওয়ে এবং নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ধীরগতিতে যানচলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদক
বাকলিয়া নিউজ প্রতিবেদন




