ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি: হালাল রিজিক ও শক্তিশালী কিছু আমল

জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এসে অনেক মুসলিম অভাব-অনটন, ঋণের বোঝা এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। এই সংকটময় মুহূর্ত থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কেবল দোয়ার ওপর নির্ভর করি, কিন্তু দোয়ার পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনাও জরুরি। ইসলাম বলে, আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে আগে নিজের জীবনকে তাঁর আদেশের ছাঁচে গড়তে হবে।
১. দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত: হালাল রিজিক
অনেক সময় আমরা প্রচুর দোয়া করি, কিন্তু ফল পাই না। এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে হারাম উপার্জন বা হারাম খাদ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (বায়হাকি)
মনে রাখবেন: দোয়া কবুলের জন্য আহার ও উপার্জন হালাল হওয়া অপরিহার্য। পেটে যদি হারাম খাবার থাকে, তবে চোখের পানি ফেলে দোয়া করলেও তা আল্লাহর দরবারে পৌঁছাবে না। তাই ঋণের চাপ যতই থাকুক, হারামের পথ (সুদ, ঘুষ, প্রতারণা) থেকে নিজেকে ১০০% দূরে রাখুন।
২. প্রশান্তির উৎস: অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত
দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা দূর করার শ্রেষ্ঠ দাওয়াই হলো নিয়মিত পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা। আল্লাহ বলেন, “জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই (স্মরণে) অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।” (সূরা রা‘দ: ২৮)
কেবল রিডিং না পড়ে প্রতিদিন অল্প করে হলেও কুরআনের আয়াত অর্থসহ পড়ার অভ্যাস করুন। যখন আপনি জানবেন আপনার রব আপনাকে কী বলছেন, তখন কোনো অভাবই আপনাকে হতাশ করতে পারবে না। আল্লাহর আদেশগুলো জানুন এবং মেনে চলুন, পথ সহজ হয়ে যাবে।
৩. সংকট সম্পর্কে কোরআনের আশ্বাস
দুনিয়ার কষ্ট চিরস্থায়ী নয়। সূরা ইনশিরাহ-তে আল্লাহ পরপর দুইবার ঘোষণা করেছেন:
فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا
অর্থ: কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে, (আয়াত: ৫)
إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًۭا
অর্থ: নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। (আয়াত: ৬)
৪. ঋণ ও দুশ্চিন্তা মুক্তির শক্তিশালী দোয়া
হালাল রিজিকের ওপর অটল থাকার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করুন:
দোয়ার উদ্দেশ্য | দোয়া, উচ্চারণ ও অর্থ |
|---|---|
ঋণ পরিশোধের অলৌকিক দোয়া | اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বি-হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বি-ফাদলিকা আমমান সিওয়াক। অর্থ: হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে তোমার হালাল রিজিক আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। আর তোমাকে ছাড়া আমাকে কারো মুখাপেক্ষী করো না। (তিরমিজি: ৩৫৬৩) |
৫. নিয়মিত আমল ও রুটিন
✅ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: জামাতের সাথে আদায়ের চেষ্টা করুন। নামাজ রিজিকের বরকত বাড়ায়।
✅ ইস্তিগফার: প্রতিদিন ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ুন। এটি অভাব দূর করার পরীক্ষিত আমল।
✅ সদকা: অভাবের সময়ও সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প কিছু সদকা করুন।
শেষ কথা
মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। ধৈর্য ধরুন, হালাল পথে থাকুন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। নিশ্চয়ই আঁধার কেটে আলো আসবেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক ও ঋণমুক্ত জীবন দান করুন। আমিন।
প্রতিবেদক
মোঃ আরিফ মাঈনউদ্দিন



