🗳️আসছে নির্বাচন ২০২৬ - আপনার মতামত দিন!
রাজনীতিজাতীয়

জুলাই আন্দোলনের ৫৬% মামলার অভিযোগই ভুয়া: পিবিআই-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

জুলাই আন্দোলনের ৫৬% অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি: পিবিআই-এর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের করা মামলাগুলোর একটি বিশাল অংশই ভিত্তিহীন এবং যাচাই-বাছাইহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই (Police Bureau of Investigation)-এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এ পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রমাণের অভাবে এসব মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে 'ফাইনাল রিপোর্ট' বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

ভৌতিক মামলার চিত্র: বাদী ও সাক্ষীর হদিস নেই

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্বরে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু পিবিআই তদন্তে নেমে দেখেছে, মামলার মূল বাদী মো. আবদুল আজিজ কিংবা এজাহারে উল্লিখিত সাক্ষীদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। এমন 'ভৌতিক' মামলার কারণে অনেক নিরপরাধ মানুষ আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চার্জশিটেও অসংগতি: ঢাকা না এসেই আসামি

পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “ঢাকার কোনো ঘটনায় করা মামলায় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল বা কুমিল্লার এমন মানুষকে আসামি করা হয়েছে, যারা সম্ভবত ওই সময়ে ঢাকায় পা-ও রাখেননি।”

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে:

  • ৪৪ শতাংশ মামলায় চার্জশিট দেওয়া হলেও সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত আসামির বদলে ভুল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

  • অনেক বাদী পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

  • রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এসব মামলার একটি বড় অংশ দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তের পরিসংখ্যান এক নজরে

তদন্তের ফলাফল

শতকরা হার (%)

অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি (ফাইনাল রিপোর্ট)

৫৬%

অভিযোগপত্র দাখিল (চার্জশিট)

৪৪%

আসামিদের বড় অংশই

সন্দেহভাজন/অসংশ্লিষ্ট

আইনজ্ঞদের সতর্কবার্তা

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাওভাবে মামলা করার সংস্কৃতির কারণে প্রকৃত বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, কেউ যদি মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে, তবে ভুক্তভোগীরা ওই বাদীর বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করার আইনি অধিকার রাখেন। আদালতও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সম্পাদকীয় নোট: সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়াই আইনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

#জুলাই আন্দোলন#পিবিআই#পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন#মিথ্যা মামলা#আদালত সংবাদ#বাংলাদেশ পুলিশ#৫৬ শতাংশ মামলা ভুয়া

প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

মতামত জানাও (0)

সকলের সাথে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন

মতামত জানাতে লগিন করুন

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই লগিন করতে পারেন

লোড হচ্ছে...