জানুয়ারিতেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট! বাণিজ্য বাড়ল ২০%

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ। আগামী জানুয়ারি মাসেই ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্য বেড়েছে ২০ শতাংশ
বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এখন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন এবং যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে এই বাণিজ্যের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
চিকিৎসায় পাকিস্তানমুখী বাংলাদেশি রোগীরা
কূটনৈতিক আলোচনার বাইরেও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাইকমিশনার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিশেষ করে ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের আস্থা বাড়ছে।
এ সময় তিনি প্রস্তাব দেন, পাকিস্তান প্রতিস্থাপন সম্পর্কিত চিকিৎসিক্ষেত্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক সুযোগ দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: ন্যানোটেকনোলজি ও এআই
সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময়ের কথা তুলে ধরে ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ন্যানোটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে তারা প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সার্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় জোর
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মিথস্ক্রিয়াকে স্বাগত জানান। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক (SAARC)-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সফর বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-people contact) বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, হাইকমিশনার হায়দারের মেয়াদকালে উভয় দেশ বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করবে। বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা





