ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক কাল, টেবিলে ২০ দফার ‘শান্তি প্রস্তাব’

গত অক্টোবরে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চূড়ান্ত ফয়সালার আশায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি একটি ‘শান্তি পরিকল্পনা’ এবং ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিষয়টিই হবে এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা। তবে বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনজুড়ে রুশ বিমান হামলা এবং ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য আলোচনার টেবিলে ভিন্ন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
টেবিলে ২০ দফার ‘শান্তি প্রস্তাব’ জেলেনস্কি শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনাটি এখন ৯০ শতাংশ প্রস্তুত। তিনি বলেন, "আমাদের কাজ হলো এটি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা। আমরা একটি দিনও নষ্ট করতে চাই না। ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে অনেক কিছুই ফয়সালা হতে পারে।"
হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বড়দিনেও (২৫ ডিসেম্বর) এক ঘণ্টা ফোনালাপ করেছেন জেলেনস্কি। সেখান থেকে বেশ কিছু ‘নতুন আইডিয়া’ উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো:
নিরস্ত্রীকৃত জোন: দনবাস অঞ্চলে একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (Free Economic Zone) তৈরি করা।
সেনা প্রত্যাহার: ইউক্রেন পূর্বদিকের ফ্রন্টলাইন থেকে ৪০ কিলোমিটার পিছিয়ে আসবে, বিনিময়ে রাশিয়াকেও তাদের দখলকৃত শিল্পাঞ্চল থেকে পিছু হটতে হবে।
নিরাপত্তা গ্যারান্টি: ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর আদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দেবে।
সেনা সংখ্যা: ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ৮ লক্ষ সদস্যের হবে (যা রাশিয়া কমাতে চায়)।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও রাশিয়ার অবস্থান বৈঠকের আগে পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "আমি অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত জেলেনস্কির হাতে কিছুই নেই।" তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুতিন এবং জেলেনস্কি—উভয়ের সঙ্গেই আলোচনা ‘ভালো হবে’। ট্রাম্প খুব দ্রুত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ ২৫ ডিসেম্বরকে একটি ‘মাইলফলক’ দিন হিসেবে উল্লেখ করলেও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আলোচনা বানচালের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। ক্রেমলিন এখনো দনবাস থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। পুতিনের সাফ কথা—দনবাসের পুরোটা ছাড়তে হবে, নতুবা যুদ্ধ চলবে।
কিয়েভে হামলার মধ্যেই শান্তির খোঁজ ফ্লোরিডায় যখন শান্তির আলোচনা চলছে, তখন ইউক্রেনের মাটিতে বারুদের গন্ধ তীব্র হচ্ছে। শনিবার সকালেও কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে নতুন করে বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া খারকিভে রুশ হামলায় ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়া বর্তমানে দোনেৎস্কের ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক থেকে আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে কি না, নাকি এটি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক চাল—তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক





