ভোটের ‘তৃতীয় চোখ’: ৮১ সংস্থাকে নিবন্ধন, বাদ পড়ল ব্যর্থরা

ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিগত তিনটি নির্বাচনে যেসব পর্যবেক্ষক সংস্থা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৮১টি সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর এনজিও ব্যুরো সম্মেলন কক্ষে নাগরিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক নতুন নির্বাচন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যর্থরা বাদ, নতুনদের সুযোগ
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে জানান, অতীতের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই এবার সংস্থাগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "বিগত তিন নির্বাচনে যেসব পর্যবেক্ষক সংস্থা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। এবার ৮১টি যোগ্য সংস্থাকে আমরা বেছে নিয়েছি।"
পর্যবেক্ষকরা ইসির ‘তৃতীয় চক্ষু’
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তাদের নির্বাচন কমিশনের ‘তৃতীয় চক্ষু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "নীতিমালা মেনে কাজ করলে ইসি নাগরিক পর্যবেক্ষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। আমরা চাই আপনারা নিরপেক্ষভাবে সঠিক চিত্র তুলে ধরুন।"
বয়সসীমা ও সতর্কতা
এবার পর্যবেক্ষকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বয়সসীমা: পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ: অল্প বয়সী পর্যবেক্ষকদের আবেগের বশবর্তী না হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান কমিশনার। তিনি তরুণ পর্যবেক্ষকদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবাধ সুযোগ দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করে ইসি।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা




