নীতীশের ‘নেকাব’ কাণ্ড: লোকলজ্জা নাকি ক্ষোভ? কাজে যোগ দেননি সেই নারী চিকিৎসক

ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জনসমক্ষে এক নারী চিকিৎসকের নেকাব বা বোরকা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক থামছেই না। ওই ঘটনার পর শনিবার (২১ ডিসেম্বর) চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও কর্মস্থলে আসেননি ডা. নুসরাত পারভীন। উল্টো তার এবং তার পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি পাটনার সিভিল সার্জন অবিনাশ কুমার সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নুসরাত পারভীন কাজে যোগ দেননি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে যোগদানের সময়সীমা ২০ ডিসেম্বরের পরেও বাড়ানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয় তিনি সোমবার আসেন কিনা। তবে তার বা তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।”
পরিবার কী বলছে? ডা. নুসরাত বর্তমানে যে কলেজের ছাত্রী, সেই গভর্নমেন্ট তিব্বি কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান জানান, পরিবারটি মিডিয়ার অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে বিরক্ত হয়ে আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গুজব: পরিবারটি কলকাতা চলে গেছে—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন অধ্যক্ষ। তিনি জানান, নুসরাতের পরিবার নীতীশ কুমারের ওপর নয়, বরং মিডিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ।
দোটানা: নুসরাতের পরিবার এখন নতুন করে ভাবছে যে তিনি আদৌ চাকরিতে যোগ দেবেন, নাকি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাবেন।
রাজ্যপালের সাফাই এদিকে বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খান নীতীশ কুমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, “বাবা ও মেয়ের মধ্যে কি কোনো বিতর্ক হতে পারে? নীতীশ কুমার ছাত্রীদের নিজের মেয়ের মতোই দেখেন। এই ঘটনায় ‘বিতর্ক’ শব্দটি শুনলে আমার কষ্ট লাগে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট গত সপ্তাহে পাটনায় আয়ুশ চিকিৎসকদের নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মঞ্চে নীতীশ কুমার ডা. নুসরাতের নেকাব বা মুখের পর্দা সরিয়ে দেন। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন ওই নারী চিকিৎসক।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক





