ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়? শত্রুতা ভুলে ‘বুলেট ট্রেনে’ এক হচ্ছে সৌদি-কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন। এক সময়ের চরম শত্রুতা ভুলে এবার গলায় গলায় ভাব সৌদি আরব ও কাতারের। এই নতুন সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দুই দেশ চালু করতে যাচ্ছে উচ্চগতির বৈদ্যুতিক ট্রেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল উন্নয়ন নয়, এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে সাম্প্রতিক ‘ইসরায়েলি আগ্রাসন’ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভয়।
সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে এই ‘ঐতিহাসিক’ রেল প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।
‘ঐতিহাসিক’ রেল প্রকল্প: কী থাকছে এতে? এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটবে। প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
রুট: সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে কাতারের দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
দৈর্ঘ্য: ৭৮৫ কিলোমিটার।
গতি: ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল)।
সময়: বিমানে ৯০ মিনিট লাগলেও, এই ট্রেনে রিয়াদ থেকে দোহা পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা।
বাজেট: ৩০ হাজার ৬৪ কোটি ডলার।
কর্মসংস্থান: দুই দেশে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
কেন এই হঠাৎ ঘনিষ্ঠতা? মাত্র চার বছর আগেও (২০১৭-২০২১) সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইসরায়েলের বেপরোয়া আচরণ আরব নেতাদের এক কাতারে নিয়ে আসছে।
গত সেপ্টেম্বরে দোহার হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের ঘটনা আরব বিশ্বে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। দোহার ‘আল-উদিদ’ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা থাকার পরেও ইসরায়েলি হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি—যা কাতার ও সৌদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করছে।
অতীতের তিক্ততা ও মার্কিন সমীকরণ ২০১৭ সালে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ ও ‘আল-জাজিরা’ ইস্যুতে কাতারের ওপর কঠোর অবরোধ দিয়েছিল সৌদি জোট। ১৩ দফা শর্ত দিয়ে রিয়াদ চেয়েছিল কাতারকে কোণঠাসা করতে। কিন্তু ২০২১ সালে আল-উলা সম্মেলনের মাধ্যমে বরফ গলতে শুরু করে।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গত সেপ্টেম্বরে দোহায় হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি আরব নেতারা। তাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছেন সৌদি যুবরাজ সালমান। এই রেল প্রকল্প সেই বৃহত্তর ঐক্যেরই অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ-দোহা রেল সংযোগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি—সব মিলিয়ে এটি মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’। এর মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলি হুমকি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আরব বলয় তৈরি করতে চাইছেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, আরব নিউজ
প্রতিবেদক
Md Arif Mainuddin




