ব্রেকিং: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন! পুড়ল ৩০ ঘর, চার্জার বিস্ফোরণের শঙ্কা

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি বসতঘর। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও আলীখালীর ২৪ ও ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার পরপরই ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট
আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়া মাত্রই টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় উখিয়া থেকে আরও ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন এবং স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
চার্জার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত?
আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা চার্জার বিস্ফোরণের কথা শোনা যাচ্ছে। টেকনাফের লেদা ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলম বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্পের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তারের ঘরে ফোনের চার্জার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আমরা এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ আলম জানান, "হঠাৎ করেই ক্যাম্পের ঘরগুলোর মধ্যে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা নিজেরা নেভানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু এরই মধ্যে ২৫-৩০টির বেশি ঘর পুড়ে গেছে।"
আরেক বাসিন্দা নুর আকম মো. আলম বলেন, "একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আমরা কাছে ভিড়তে পারিনি।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, "আলীখালী ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যবর্তী এলাকার ঘরগুলোতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
শীতের রাতে মাথার ওপরের ছাদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার





