🗳️আসছে নির্বাচন ২০২৬ - আপনার মতামত দিন!
জাতীয়

বিকালে স্ত্রীর সঙ্গে কথা, রাতে সুদানে সবুজের মৃত্যুর খবর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। নিহতদের একজন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামের মো. সবুজ মিয়া।

সবুজ মিয়ার মৃত্যুর খবরে তার গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, শনিবার দুপুরে সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং আটজন আহত হন। রোববার নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়

নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন—

কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামরিক লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

আহতরা হলেন—

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), মোসা. উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

আইএসপিআর জানায়, আহতদের মধ্যে সৈনিক মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সবুজ মিয়া মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারান। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে অভাব-অনটনের মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা। প্রায় এক মাস সাত দিন আগে, গত ৭ নভেম্বর, তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে সুদানে যান। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামরিক লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিহত সবুজ মিয়ার মা ছকিনা বেগম ও স্ত্রী নুপুর আক্তার বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।

নুপুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সুদানে যাওয়ার পর শনিবার বিকেলে কয়েক মিনিটের জন্য ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। রাতে হঠাৎ খবর পেলাম—ও আর নেই।”

ছেলে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা ছকিনা বেগম। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, “হামার একমাত্র ছেলে আছিল। ফোনে খোঁজ নিত। এখন হামার খোঁজ নিবে কে? হামার ছেলের লাশ বাড়িতে চাই।”

গ্রামবাসী আমিনুল ইসলাম বলেন, “সবুজ খুব ভদ্র ও পরিশ্রমী ছিল। মা আর স্ত্রীকে নিয়ে তার ছোট সংসার চলত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল সে। তার মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।”

পরিবার জানায়, সবুজ এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মা ও স্ত্রীকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ৭ মার্চ নাটোরের নুপুর আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের কোনো সন্তান নেই।

সবুজ মিয়া প্রায় ১১ বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। পরে লন্ড্রি কর্মচারী পদে উন্নীত হন। তিন মাস আগে ছুটি শেষে আবার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন,

“নিহতের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

#সুদানে#মৃত্যুর#বিকালে#স্ত্রীর#সঙ্গে#কথা

প্রতিবেদক

Md Arif Mainuddin

মতামত জানাও (0)

সকলের সাথে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন

মতামত জানাতে লগিন করুন

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই লগিন করতে পারেন

লোড হচ্ছে...