🗳️আসছে নির্বাচন ২০২৬ - আপনার মতামত দিন!
আন্তর্জাতিক

ব্রেকিং: ভারতের ব্যাখ্যা মানল না ঢাকা, মিশন কমানোর কঠোর হুঁশিয়ারি

নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে আঁকা গ্রাফিতির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ছবি: মেহেদী হাসান

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। শনিবার রাতের ওই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘নিন্দনীয়’ উল্লেখ করে ঢাকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টিকে কোনোভাবেই ‘বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ভারতের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন।

ভারতের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান ও কঠোর হুঁশিয়ারি শনিবার রাতে দিল্লির চাণক্যপুরীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, সেখানে মাত্র ২০-২৫ জন যুবক স্লোগান দিয়েছে এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কোনো চেষ্টা করা হয়নি। তবে ভারতের এই দাবি মানতে নারাজ ঢাকা।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, "আমরা ভারতের প্রেস নোট সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। তারা কীভাবে কূটনৈতিক এলাকার এত ভেতরে আসতে পারল? আমরা শুনেছি হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, যদিও এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ আমাদের হাতে নেই।"

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমরা এখনো স্বাগতিক দেশের (ভারত) ওপর ভরসা রাখছি। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনে ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের পরিসর বা জনবল কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।"

‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’র অভিযোগ খণ্ডন ভারত দাবি করেছে, ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত যেভাবে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’-এর ঢালাও অভিযোগ তুলছে, তা অনভিপ্রেত।

মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিস্থিতি অনেক ভালো এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

হাইকমিশনে আতঙ্কের রাত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে তিনটি গাড়িতে করে একদল লোক এসে হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়। তারা বাংলা ও হিন্দিতে উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং হাইকমিশনারকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে। এতে মিশন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগরতলায় নিরাপত্তা জোরদার এদিকে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি টিপরা মোথা পার্টির যুব সংগঠন সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গত বছরও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতবিরোধী মনোভাব দৃশ্যমান। সম্প্রতি এক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো নিয়ে মন্তব্য করার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লির হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

#বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক#তৌহিদ হোসেন#দিল্লি হাইকমিশন#কূটনৈতিক উত্তেজনা#পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়#ব্রেকিং নিউজ#আন্তর্জাতিক সংবাদ#Bangladesh India Relations#Touhid Hossain#Delhi News

প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মতামত জানাও (0)

সকলের সাথে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন

মতামত জানাতে লগিন করুন

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই লগিন করতে পারেন

লোড হচ্ছে...