বঙ্গোপসাগরে মাছ কমেছে ৭৮%: ক্ষতিকর জাল ও দূষণ নিয়ে মৎস্য উপদেষ্টার উদ্বেগ

ক্ষতিকর জাল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি: মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মাছ কেবল বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘সুস্থ সাগর (হেলদি ওশান)’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশ।
বিপজ্জনক হারে কমছে বঙ্গোপসাগরের মাছ
উপদেষ্টা তার বক্তব্যে ড. ফ্রিটজফ নানসেনের সাম্প্রতিক একটি জরিপ তুলে ধরেন, যা সামুদ্রিক সম্পদের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছে। জরিপ অনুযায়ী:
গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাপ্যতা উদ্বেগজনকভাবে ৭৮ শতাংশ কমে গেছে।
সমুদ্রের অনেক এলাকায় অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনচক্রকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও মজুদ সংকট
ফরিদা আখতার জানান, ফাঁস জাল ও বেহেন্দি জালের মতো অননুমোদিত জালের কারণে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে এবং জালেই মারা যাচ্ছে। এর ফলে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাগরে মাছের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কেবল বাণিজ্যিক মুনাফার কথা চিন্তা করে মাছ ধরলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানুষ প্রোটিনের সংকটে পড়বে।”
বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা
বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ বন্ধে কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সমুদ্রে গিয়ে ইচ্ছামতো মাছ ধরার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। প্রতিটি জাহাজকে কঠোর নিয়ম ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে।” অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মাছ ধরে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ফলে পরিবেশগত যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা বন্ধে জালের ফাঁস নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি করা হবে বলেও তিনি জানান।
এক নজরে সামুদ্রিক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য
বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি / তথ্য |
|---|---|
মাছ কমার হার | ৭৮% (গত ৭ বছরে) |
নতুন শনাক্ত মাছের প্রজাতি | ৬৫টি (৫টি বিশ্বে প্রথম) |
প্রধান হুমকি | নিষিদ্ধ জাল, প্লাস্টিক ও অক্সিজেন সংকট |
উদ্যোগ | আহরণবিধি কঠোরকরণ ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক |
অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব-ইনচার্জ মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।
সম্পাদকীয় নোট: সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মৎস্যসম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের কঠোর তদারকির পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা





