রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চলবে: মিয়ানমারের সব আপত্তি খারিজ আইসিজেতে

২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলায় মিয়ানমারের উত্থাপিত সব আপত্তি খারিজ করে দিয়েছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা International Court of Justice (আইসিজে)। ফলে Gambia কর্তৃক দায়ের করা এই মামলার বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৬ বিচারকের মধ্যে ১৫–১ ভোটে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেন আপত্তি তুলেছিল মিয়ানমার
মিয়ানমার দাবি করেছিল—
রোহিঙ্গা সংকটে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ Bangladesh মামলা না করায় গাম্বিয়ার মামলা করার অধিকার নেই।
গাম্বিয়া নাকি Organization of Islamic Cooperation-এর ছায়ায় মামলা করেছে।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিরোধ নেই।
গণহত্যা সনদের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ তারা অনুসমর্থন করেনি, তাই আদালতের এখতিয়ার নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
আইসিজের সভাপতি বিচারপতি জোয়ান ই. দোনোঘুই রায়ে বলেন,
গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী যেকোনো রাষ্ট্র মানবতার স্বার্থে অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে—এক্ষেত্রে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শর্ত নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন—
গাম্বিয়া নিজস্ব সিদ্ধান্তেই মামলা করেছে, কোনো জোটের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।
মামলার আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।
কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব আসেনি।
সনদ অনুসমর্থন না করলেও আদালতের এখতিয়ার খর্ব হয় না।
মামলার পটভূমি
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে Myanmar সেনাবাহিনীর অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ ও গ্রাম পোড়ানোর ঘটনার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লাখের বেশি।
এই ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া।
অন্তর্বর্তী আদেশে আইসিজের নির্দেশনা
২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত মিয়ানমারকে—
রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে
সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে
অভিযোগ-সংক্রান্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণ করতে
চার মাসের মধ্যে এবং পরবর্তীতে প্রতি ছয় মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়।

গাম্বিয়ার রাজধানী বান্জুল
গাম্বিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
গাম্বিয়া পশ্চিম আফ্রিকার একটি ছোট দেশ। জনসংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ, যার ৯৫ শতাংশ সুন্নি মুসলিম। দেশটি ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক





