ট্রাভেল এজেন্সি আইনের নতুন অধ্যাদেশ: OTA-র জামানত ১ কোটি, টিকিট সিন্ডিকেটে জেল

বিমানের টিকিট নিয়ে কারসাজি ও টিকিট সিন্ডিকেট রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন ফেরাতে তিনি ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন। নতুন এই আইনে সরকার অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএ (OTA) এবং অফলাইন এজেন্সির জন্য আলাদা ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গেজেট প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অনলাইন বনাম অফলাইন: ব্যাংক গ্যারান্টিতে বিশাল ফারাক
সরকার নতুন অধ্যাদেশে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএ পরিচালনার শর্ত অনেক কঠিন করেছে। অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে জামানতের পরিমাণ ১০ গুণ বেশি নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিচে তার তুলনা দেওয়া হলো:
এজেন্সির ধরণ | নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি |
|---|---|
অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সি | ১০ লাখ টাকা |
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) | ১ কোটি টাকা |
এজেন্সি মালিকরা যা করতে পারবেন না
টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি বন্ধ করতে সরকার বেশ কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের জন্য নিচের কাজগুলো এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ:
ফলস বুকিং: কোনো এজেন্সি বানোয়াট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারবে না।
বিটুবি নিষিদ্ধ: এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় (B2B) করতে পারবে না।
মিথ্যা বিজ্ঞাপন: চটকদার বিজ্ঞাপন বা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে কেউ অগ্রিম অর্থ নিতে পারবে না।
তথ্য পরিবর্তন: টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর এজেন্সি যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে।
জেল ও জরিমানার বিধান
সংশোধিত আইনে সরকার শাস্তির মাত্রা বাড়িয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আদালত নিচের দণ্ডগুলো প্রয়োগ করতে পারবে:
শাস্তি: আইন অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করবে। এছাড়া প্রতারণা বা দুর্নীতির প্রমাণ পেলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মালিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।
নবায়ন ও অযোগ্যতা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এজেন্সি মালিকদের প্রতি ৩ বছর অন্তর সনদ নবায়ন করতে হবে। এছাড়া প্রতি বছর সরকারের কাছে আর্থিক বিবরণীসহ অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে মন্ত্রণালয়। কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদক
বাকলিয়া নিউজ ডেস্ক




