মহাবিপদে ‘উপহাস’! শ্রীলঙ্কার বন্যা দুর্গতদের মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান থেকে পাঠানো মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণের প্যাকেট। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিতওয়াহ’র (Ditwah) তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কা। মৃত্যুর মিছিল যখন সাড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে, তখন সাহায্যের নামে পাকিস্তান যা করল, তাকে ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই বলছে না কলম্বো। মানবিক সহায়তার নামে বন্যাপীড়িত মানুষের জন্য পাকিস্তান পাঠিয়েছে—মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পচা খাবার!
পাকিস্তানের এই কাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে কূটনৈতিক পাড়ায়। কলম্বো সরাসরি উষ্মা প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদের কাছে।

বিশেষ উড়োজাহাজে করে পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় ত্রাণ এসেছে। ছবি এক্স
ত্রাণের প্যাকেটে ২০২৪ সাল! বর্তমানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস চলছে। অথচ পাকিস্তান থেকে পাঠানো ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা ছিল ২০২৪ সাল। অর্থাৎ, অন্তত এক বছর আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে মুমূর্ষু মানুষের জন্য।
শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ভুলবশত এমন একটি ছবি পোস্ট করা হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও পরে সমালোচনার মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
একনজরে শ্রীলঙ্কার মহাবিপর্যয়:
মৃত: ৪৫৬ জন।
নিখোঁজ: ৩৬৬ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত: ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ।
অবস্থা: প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
নেপালের পর শ্রীলঙ্কা: পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাস? বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রাণ কূটনীতিতে পাকিস্তানের এমন ‘লজ্জাজনক’ ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের সময় হিন্দু অধ্যুষিত দেশটিতে ‘গরুর মাংসের’ মসলাযুক্ত খাবার পাঠিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। এবার শ্রীলঙ্কায় মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ পাঠিয়ে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলো শেহবাজ শরিফের সরকার।
শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলছেন, “এটা সাহায্যের নামে অপমান।” কলম্বোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে পাকিস্তান বা সন্দেহজনক দেশগুলো থেকে আসা ত্রাণ আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হবে।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক





