রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি, হাড়কাঁপানো শীতে কাবু জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত
বছরের প্রথম দিনেই হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহী। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহী আবহাওয়া অফিস মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন ধরে এই একই তাপমাত্রা বিরাজ করায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে উত্তরের এই জেলা।
সূর্য উধাও, বিপাকে শ্রমজীবীরা
গত তিন-চার দিন ধরে রাজশাহীর আকাশে সূর্যের দেখা মিলছে না। হিমেল হাওয়ার দাপটে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতের তীব্রতায় মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা জীবিকার তাগিদে বের হচ্ছেন, গরম পোশাকেও তারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ শতভাগ থাকায় শীতের অনুভূতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
এক নজরে আবহাওয়ার পরিস্থিতি
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে বর্তমান পরিস্থিতির একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
বিবরণ | রেকর্ড/তথ্য |
|---|---|
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (মৌসুমের সর্বনিম্ন) |
আবহাওয়া পরিস্থিতি | মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা |
বাতাসের আর্দ্রতা | ১০০% (জলীয় বাষ্প) |
পূর্বাভাস | আরও কয়েকদিন এই তীব্রতা থাকতে পারে |
কর্মকর্তার বক্তব্য
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম সরাসরি জানিয়েছেন, "টানা দুদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা কমছে না। সহসা এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।"
হাসপাতালে রোগীর চাপ, চিকিৎসকদের হিমশিম
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
প্রধান রোগ: নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট।
বর্তমান অবস্থা: হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখার এবং গরম পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী





