ব্রেকিং: সম্পত্তির দ্বন্দ্বে ৩৬ ঘণ্টা বাবার লাশ জিম্মি!

অবশ্যই, মোবাইল পাঠকদের সুবিধার্থে প্যারাগ্রাফগুলো ছোট করে এবং আরও সহজপাঠ্যভাবে সাজিয়ে দিচ্ছি।
1. Category
বাংলাদেশ
2. SEO Headline
ব্রেকিং: সম্পত্তির দ্বন্দ্বে ৩৬ ঘণ্টা বাবার লাশ জিম্মি!
3. SEO Meta Description
সম্পত্তির লোভে বাবার লাশ দাফনে বাধা দিল সন্তানরা। হাটহাজারীতে ৩৬ ঘণ্টার নাটকীয়তা শেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে কীভাবে হলো সমাধান? জানুন বিস্তারিত ঘটনা।
4. SEO Tags
চট্টগ্রাম নিউজ, হাটহাজারী সংবাদ, লাশ দাফনে বাধা, সম্পত্তির বিরোধ, পারিবারিক কলহ, ভাইরাল নিউজ, আজকের খবর, বাংলাদেশ পুলিশ, সামাজিক অবক্ষয়, Chattogram News.
5. Detailed News
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
সম্পত্তির লোভ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত দেখল চট্টগ্রাম নিউজ-এর পাঠকরা।
বাবার নিথর দেহ সামনে পড়ে আছে, অথচ দাফন বা জানাজা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। সন্তানদের চিন্তা কেবল পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সম্পত্তির বিরোধের জেরে দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা বাবার মরদেহ আটকে রাখার এমনই এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে লিখিত সমঝোতার পর দাফনের অনুমতি মেলে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে হাটহাজারী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ফটিকা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা পুরো এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে।
পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ঘটনার সূত্রপাত এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব মেখল ৫নং ওয়ার্ডের মৃত নকশু মিয়ার বড় পুত্র এবং বর্তমানে পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. সেকান্দর (৭০) শনিবার ভোর ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই সংসারে মোট ৮ সন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয়দের মতে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে সেকান্দর মিয়া তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি ‘হেবা দলিল’ মূলে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের নামে লিখে দেন।
মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রথম সংসারের পাঁচ সন্তান এবং দ্বিতীয় সংসারের তিন সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
লাশ নিয়ে ৩৬ ঘণ্টার নাটকীয়তা বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ঠিক তখনই বেঁকে বসেন প্রথম সংসারের পাঁচ সন্তান।
তারা সাফ জানিয়ে দেন, পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বা পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা বাবার লাশ দাফন করতে দেবেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মরদেহে পচন রোধে একটি ফ্রিজার ভ্যানে করে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বাড়ির সামনেই লাশ ফেলে রাখা হয়। বাবার লাশের সামনে সন্তানদের এমন অনড় অবস্থান দেখে বিস্মিত হন স্থানীয়রা।
প্রথম পক্ষের মেয়ে আয়েশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাবা আমাদের বঞ্চিত করে সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের দিয়ে গেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায্য ভাগ চাই। আমাদের হক না পাওয়া পর্যন্ত আমরা দাফন হতে দেব না।"
অন্যদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ইমতিয়াজ অসহায় হয়ে বলেন, "মৃত মানুষের লাশ আটকে রেখে কী লাভ? আগে বাবার দাফন হোক, পরে আমরা সামাজিকভাবে বৈঠকে বসে সব সমস্যার সমাধান করব।"
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও চূড়ান্ত সমাধান বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে হাটহাজারী সংবাদ সংগ্রহকারী স্থানীয় সাংবাদিকরা ও হাটহাজারী মডেল থানার এসআই জালাল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মুরব্বিদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে।
অবশেষে থানা পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদকর্মী রেজাউল মিন্টুর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত আপসনামা বা সমঝোতা চুক্তি করা হয়।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আগে ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষ বসে সম্পত্তির বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন ও সমাধান করবে।
এই সমঝোতার পর রোববার মাগরিবের নামাজের পর মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া বাবার লাশ জিম্মি করে সম্পত্তি আদায়ের এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল নিউজ-এ পরিণত হয়। নেটিজেনরা সন্তানদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। অনেকেই একে চরম সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম





