🗳️আসছে নির্বাচন ২০২৬ - আপনার মতামত দিন!
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের ‘হাই অ্যালার্ট’: পশ্চিমবঙ্গের ৫ জেলায় কড়া নজরদারি

বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে নয়াদিল্লি। ওপার বাংলার এই বড় ঘটনার জের ধরে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে ভারত সরকার। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ ইতিমধ্যেই বিশেষ বিএসএফ অ্যালার্ট (BSF Alert) জারি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বর্ডার নিউজ কভার করা সংবাদকর্মীরা জানাচ্ছেন, বিএসএফ জওয়ানরা উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল বর্ডার আপডেট অনুযায়ী যাত্রীদের তল্লাশিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। মূলত যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এই ‘হাই অ্যালার্ট’ মোডে চলে গেছে।

বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তর এক জরুরি বার্তায় জওয়ানদের ছুটি বাতিল করে ‘স্ট্যান্ড বাই’ থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জওয়ানরা নদীমাতৃক সীমান্ত এবং কাঁটাতারবিহীন এলাকাগুলোতে স্পিড বোটের টহল বাড়িয়েছেন।

রাতের অন্ধকারে বিএসএফের ড্রোন নজরদারি

সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিএসএফের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভারতীয় গণমাধ্যমকে সরাসরি জানিয়েছেন, "বাংলাদেশে একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্তে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তাই আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। সুন্দরবন সংলগ্ন জলসীমা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের হিলি সীমান্ত পর্যন্ত—সর্বত্র আমাদের জওয়ানরা ‘রেড অ্যালার্ট’ মোডে কাজ করছেন। রাতে আমরা থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালাচ্ছি।"

পশ্চিমবঙ্গের ৫ জেলায় বিশেষ রেড জোন

বিএসএফ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন। নিচের ছকে জেলাভিত্তিক গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হলো:

জেলা (পশ্চিমবঙ্গ)

বিএসএফের গৃহীত পদক্ষেপ

উত্তর ২৪ পরগনা

জওয়ানরা পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রতিটি কার্টন স্ক্যান করছেন এবং সন্দেহভাজনদের আইডি কার্ড যাচাই করছেন।

মুর্শিদাবাদ

পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বিজিবি (BGB)-এর সঙ্গে বিএসএফ ফ্ল্যাগ মিটিং করেছে এবং জলপথে গানবোট নামিয়েছে।

নদীয়া

কাঁটাতারবিহীন এলাকাগুলোতে বাহিনী অতিরিক্ত ওয়াচ টাওয়ার সক্রিয় করেছে এবং স্থানীয়দের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।

মালদহ ও দিনাজপুর

জাল নোট বা অস্ত্র পাচার রোধে কর্তৃপক্ষ ডগ স্কোয়াড নামিয়েছে এবং হিলি ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের বায়োমেট্রিক যাচাই করছে।

বাণিজ্য ও পর্যটকদের জন্য জরুরি বার্তা

সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টরা। বিএসএফ প্রতিটি ট্রাক তল্লাশি করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে। ফলে সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের লম্বা লাইন তৈরি হতে পারে।

পর্যটকদের জন্য নির্দেশনা: যারা মেডিকেল ভিসা বা টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছেন বা ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছেন, তাদের ভয়ের কিছু নেই। তবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা চেকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় নিতে পারেন। তাই প্রশাসন পর্যটকদের হাতে অতিরিক্ত ২-৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন গ্রামবাসীদের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত এলাকার ধারেকাছে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএসএফকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা যেন তারা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখে। বিশেষ করে থার্টি ফার্স্ট নাইটের উৎসব এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। ওপার বাংলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এই কড়াকড়ি অব্যাহত রাখতে পারে।

#ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত#বিএসএফ অ্যালার্ট#পশ্চিমবঙ্গ বর্ডার নিউজ#পেট্রাপোল বর্ডার আপডেট#অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ#BSF High Alert#India Bangladesh Border News#Petrapole Update#West Bengal News

প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মতামত জানাও (0)

সকলের সাথে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন

মতামত জানাতে লগিন করুন

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই লগিন করতে পারেন

লোড হচ্ছে...