বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল ভারত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলবের প্রেক্ষিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান পরিষ্কার করে।
এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ভারতে অবস্থান করে কেউ যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উসকানি দিতে না পারে—সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দিল্লির এই পাল্টা বিবৃতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েন নতুন মোড় নিল।
নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে ইসির জরুরি বৈঠক
এদিকে, একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ঘটা বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করতেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
নাশকতার আশঙ্কা ও ইসির কঠোর নির্দেশনা
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা ‘চোরাগোপ্তা হামলা’গুলো কোনো বড় নাশকতার পরিকল্পনার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই এবং নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
চেকপোস্ট বৃদ্ধি: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
গ্রেফতার অভিযান: জামিনে মুক্ত হয়ে যেসব সন্ত্রাসী ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে।
কঠোর নজরদারি: কোনো নাশকতাকারী বা অনুপ্রবেশকারী যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নাশকতামূলক তৎপরতা দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকবে।
প্রতিবেদক
কূটনৈতিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা





