নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা: তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইসির বৈঠক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা নস্যাৎ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে 'হার্ডলাইনে' থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে শিগগিরই দেশজুড়ে আবারও জোরদার হচ্ছে যৌথ বাহিনীর অভিযান।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধান ও কঠোর বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রথমবারের মতো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা আলাদাভাবে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যারা নির্বাচন বানচাল বা বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
কমিশনার বলেন, "আমরা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। যারা দস্যুতা করবে, ভাঙচুর চালাবে বা নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ যেন কেউ না পায়, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।"
যৌথ বাহিনী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বৈঠকে জানানো হয়, যৌথ বাহিনীর অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের ঝনঝনানি বেশি এবং দুর্গম (রিমোট) এলাকায় বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট বসানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শহীদ ওসমান হাদি ও ভোটের পরিবেশ সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করেছে কমিশন। কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, "তফসিল ঘোষণার পর এটি একটি বড় ঘটনা। জাতি শোকে মুহ্যমান ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।"
গণমাধ্যমে হামলা ও ইসির উদ্বেগ তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসি। কমিশনার বলেন, "গণমাধ্যম আমাদের অংশীজন। আপনারা নিরাপদ বোধ না করলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? এসব ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। আমরা বাহিনীগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছি।"
প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রটোকল দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ বিশেষ প্রটোকল তৈরি করেছে। কোনো প্রার্থী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে পুলিশের কাছে আবেদন করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ইসি।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা




