ঢাকায় বারবার ভূমিকম্প: আমরা কি জাপানের মতো প্রস্তুত?

‘ঢাকায় কি আজ ভূমিকম্প হয়েছে?’—এমন প্রশ্ন গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুগল সার্চে ঘুরে ফিরে আসছে। কেউ লিখছেন বাংলায়, কেউ আবার ইংরেজিতে “earthquake today” সার্চ করছেন।
ঘটনার সময় ও মাত্রা:
তারিখ: ২১শে নভেম্বর, ২০২৫ (শুক্রবার)।
সময়: সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ড।
মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৫.৭ (ইউএসজিএস-এর মতে ৫.৫)।
উৎপত্তিস্থল: নরসিংদীর মাধবদী (ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে)।
গভীরতা: ১০ কিলোমিটার।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর:
হতাহত: ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে ভবন থেকে নামতে গিয়ে এবং হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৬০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আতঙ্কে হলের ছাদ বা বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
ভবন ধস: রাজধানীর মগবাজার, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং দেওয়াল ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। গাজীপুরে একটি চারতলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
আফটারশক (পরাঘাত): মূল কম্পনের পর ওই দিন এবং পরের সপ্তাহে অন্তত ৪টি 'আফটারশক' বা মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা মানুষের মনে ভীতি জিইয়ে রেখেছে।
বিশ্লেষণ: জাপান বনাম বাংলাদেশ (আপনার শেয়ার করা অংশের সারসংক্ষেপ)
এই দুর্যোগের পরই বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাপানের সাথে বাংলাদেশের প্রস্তুতির তুলনা করে সংবাদ প্রকাশিত হয় (যা আপনি শেয়ার করেছেন)। তার মূল কথা হলো: ১. প্রস্তুতি: জাপানে বছরে ১৫০০ ভূমিকম্প হয়, তাই তারা ছোটবেলা থেকেই 'ড্রিল' বা মহড়া দিয়ে প্রস্তুত থাকে। বাংলাদেশে এই মহড়া নেই বললেই চলে। ২. প্রযুক্তি: জাপানের ভবনগুলো 'সিসমিক আইসোলেশন' প্রযুক্তিতে তৈরি যা দুলতে পারে কিন্তু ভাঙ্গে না। ঢাকায় অধিকাংশ ব্যক্তিগত ভবনে এই নিয়ম মানা হয় না। ৩. নিরাপদ স্থান: জাপানে দুর্যোগের পর কোথায় আশ্রয় নিতে হবে তা সবাই জানে, ঢাকায় খোলা জায়গার অভাব এবং মানুষের এ বিষয়ে ধারণা নেই।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও আমাদের করণীয়
আরিফ ভাই, সংবাদটি পড়ার পর একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের ভীত না হয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"জনপগুলোর অধিবাসীরা কি নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর রাতে আসবে না যখন তারা ঘুমে বিভোর থাকবে? অথবা তারা কি নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর দিনের বেলা আসবে না যখন তারা খেলাধুলায় মত্ত থাকবে?" (সূরা আল-আরাফ: ৯৭-৯৮)
করণীয়: ১. তাওবা ও ইস্তিগফার: বিপদ দেখলে বেশি বেশি 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়া। ২. ধৈর্য ও সতর্কতা: আতঙ্কে হুড়োহুড়ি না করে ধৈর্যের সাথে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া (যেমন টেবিলের নিচে)। কারণ, হাদিসে আছে, তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। ৩. দান-সদকা: বিপদ কাটানোর জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা।
প্রতিবেদক
Md Arif Mainuddin




