ওসমান হাদি হত্যা: ভারতের ‘সরাসরি আলোচনার’ প্রস্তাব

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনে এবং সম্পর্কের বরফ গলাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনায়’ বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ও কংগ্রেস এমপি শশী থারুর এই আগ্রহের কথা জানান। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তা সাবধানতার সঙ্গে মোকাবিলার ওপর জোর দিয়েছেন।
সংকট নিরসনে সংলাপের বার্তা শশী থারুর বলেন, ‘চলমান সংকট কাটাতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে চায়।’ তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব উভয় দেশের সরকার ও জনগণকে বিবেচনা করতে হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় ভিসা সেন্টার অভিমুখী বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভের কারণে ভারতে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ বাংলাদেশিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।’
একাত্তরের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ? শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি বর্তমান পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য ‘১৯৭১ সালের চেয়েও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কমিটির আশঙ্কা, এই মুহূর্তে কোনো কৌশলগত ভুল হলে ঢাকায় দিল্লির প্রভাব কমতে পারে এবং ভারত তার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারে। এ বিষয়ে মোদি সরকারকে একাধিক সতর্কবার্তা ও সুপারিশ দিয়েছে কমিটি।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের দাবি:
শেখ হাসিনাকে কেবল ‘মানবিক কারণে’ আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
তাকে ভারতে বসে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
তার সাম্প্রতিক যেসব বক্তব্য বা বিবৃতি আসছে, তা তিনি নিজস্ব ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্পর্কের টানাপড়েন উল্লেখ্য, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যেই দিল্লির পক্ষ থেকে আলোচনার এই বার্তা এল।
প্রতিবেদক
Md Arif Mainuddin





