কাঁপছে দেশ: তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে, বৃষ্টির পূর্বাভাসে আরও বাড়ল শঙ্কা

মাঘের শুরুতেই হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে সারাদেশ। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর দিনভর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই কুয়াশা ও শীতের দাপট অব্যাহত থাকবে। শঙ্কার খবর হলো, দুদিন পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আজকের তাপমাত্রার চিত্র
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।
স্থান | তাপমাত্রা (সর্বনিম্ন) |
|---|---|
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) | ৮.৫° সেলসিয়াস |
দিনাজপুর | ৯.২° সেলসিয়াস |
চুয়াডাঙ্গা | ৯.৮° সেলসিয়াস |
ঢাকা | ১৩.৫° সেলসিয়াস |
বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ‘মাঘের শীত’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, "বর্তমানে উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর ফলে কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। আগামী ৬ ও ৭ জানুয়ারি দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি কমতে পারে।"
জনজীবনে স্থবিরতা ও যোগাযোগ বিপর্যয়
ঘন কুয়াশার কারণে গত রাত থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট ও মহাসড়কগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
ফেরি চলাচল: ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এতে ঘাটের উভয় পাড়ে আটকা পড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক।
বিমান চলাচল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়াশার কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ৫টি ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
কৃষি ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
টানা কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলা এবং আলুর ক্ষেতে ‘লেট ব্লাইট’ (Late Blight) বা পচন রোগ দেখা দিতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা: শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, গত ৩ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। চিকিৎসকরা খুব প্রয়োজন ছাড়া ভোরে ও রাতে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদক
আবহাওয়া প্রতিবেদক
