কাল শুরু ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন: মিলবে আইডি কার্ড ও ব্যাংক ঋণ

দেশের লাখো ফ্রিল্যান্সারের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকার আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে যাচ্ছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা এখন থেকে সরকারি স্বীকৃতির পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক নানা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত
মন্ত্রণালয় জানায়, এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd। ইতোমধ্যে এই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনেট্রেশন টেস্টিং’ (VAPT) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, সাইটটি এখন ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও প্রস্তুত।
আইডি কার্ড থাকলে কী কী সুবিধা মিলবে?
সরকার প্রদত্ত এই আইডি কার্ডটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে। নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা যেসব সুবিধা পাবেন:
ব্যাংকিং সুবিধা: আয়ের উৎস হিসেবে এই কার্ড ব্যবহার করে সহজেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।
ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড: জামানতবিহীন ঋণ এবং ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পথ সুগম হবে।
আর্থিক প্রণোদনা: রেমিট্যান্সের ওপর সরকারি প্রণোদনা পাওয়া সহজ হবে।
প্রশিক্ষণ: সরকারি ও বেসরকারি উচ্চতর প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে ‘কৌশলগত জাতীয় মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এটি তরুণ সমাজের আত্মকর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।"
উল্লেখ্য, এতদিন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র না থাকায় ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং লোন, ভিসা প্রসেসিং বা সামাজিকভাবে পরিচয় দিতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতেন। এই আইডি কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক
প্রযুক্তি ডেস্ক

