ইতিহাসে প্রথমবার: ১০০ ডলার ছুঁল রুপা, ৫ হাজারের দুয়ারে স্বর্ণ

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতির নড়বড়ে পরিস্থিতির সুযোগে বিশ্ববাজারে ইতিহাস গড়ল মূল্যবান ধাতু রুপা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। রুপার এই অবিশ্বাস্য উত্থানের প্রভাবে স্বর্ণের দামও তরতর করে বাড়ছে এবং তা প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক চাহিদার মুখে এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়।
একনজরে বিশ্ববাজারে আজকের দাম
শুক্রবারের ট্রেডিং সেশনে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধাতুর দামের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
ধাতুর নাম | বর্তমান দাম (প্রতি আউন্স) | বৃদ্ধির হার 📈 |
|---|---|---|
🥈 রুপা (Silver) | ১০০.১ ডলার রেকর্ড | ▲ ৪.০৫% |
🥇 স্বর্ণ (Gold) | ৪,৯৫৯.৯৮ ডলার | ▲ ০.৪৮% |
⚪ প্লাটিনাম | ২,৭৪০.২৫ ডলার | ▲ ৪.২১% |
⚙️ প্যালাডিয়াম | ২,০১২.১১ ডলার | ▲ ৪.৭৯% |
বিনিয়োগকারীরা কেন ঝুঁকছেন?
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ৩টি প্রধান কারণে বিনিয়োগকারীরা ডলার বা শেয়ার বাজার ছেড়ে স্বর্ণ ও রুপার মতো ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ (Safe Haven) ঝুঁকছেন:
গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো ইস্যু: ২০২৬ সালের শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সুদের হার কমার প্রত্যাশা: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে সুদের হার কমাতে পারে—এমন গুঞ্জনে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ-রুপার কদর বেড়েছে।
শুল্ক নীতি: বিভিন্ন দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কায় মানুষ ধাতব সম্পদে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, "স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদাকে যে শক্তিগুলো সমর্থন করছে, তার বড় একটি অংশ থেকেই রুপাও উপকৃত হচ্ছে। লন্ডন বাজারে রুপার সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বাড়ছে।"
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন:
"অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে। এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং সময়ের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।"
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
এইচএসবিসি ব্যাংক এক নোটে জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন স্বর্ণের চেয়ে সস্তা বিকল্প হিসেবে প্লাটিনামের আকর্ষণ বাড়ছে। ব্যাংকটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে প্লাটিনামের উৎপাদন ও ব্যবহারের ঘাটতি ১ দশমিক ২ মাসেরও বেশি হতে পারে, যা দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে, আগামী ২৭-২৮ জানুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক রয়েছে। সেখানে সুদের হারের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও একধাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক



