মানুষ মারল ছানা, কুকুর বাঁচাল শিশু: দুই বাংলার দুই চিত্রে লজ্জা পেল মানুষ

কাঁটাতারের এপারে যখন মানুষের হাতে নির্মমভাবে খুন হলো ৮টি নিষ্পাপ কুকুরছানা, ঠিক তখনই ওপারে দেখা মিলল এক বিরল দৃশ্যের। পরিত্যক্ত এক মানবশিশুকে সারা রাত ঘিরে রেখে পাহারা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখল একদল কুকুর। পাবনার ঈশ্বরদী এবং পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ—দুই বাংলার এই দুই ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, পশুরাও কখনো কখনো ‘মানুষ’ হয়ে ওঠে, আর মানুষ হয়ে ওঠে ‘পশু’।
নবদ্বীপের ‘দেবদূত’ কুকুররা পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপের ঘটনাটি হার মানিয়েছে সিনেমার গল্পকেও। একটি পাবলিক টয়লেটের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এক নবজাতক মানবশিশু। হাড়হিম করা শীতে শিশুটির প্রাণ যখন সংকটে, তখন ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসে ৪-৫টি রাস্তার কুকুর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরগুলো শিশুটির কোনো ক্ষতি তো করেইনি, বরং সারা রাত তাকে ঘিরে একটি ‘সুরক্ষা বলয়’ তৈরি করে বসে ছিল। যাতে অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী বা বিপদ শিশুটির কাছে ঘেঁষতে না পারে। ভোরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কুকুরগুলো পথ ছেড়ে দেয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, সে সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুরক্ষিত আছে। স্থানীয়রা ওই কুকুরদের ‘দেবদূত’ বলে অভিহিত করছেন।
পাবনার সেই নিষ্ঠুরতা নবদ্বীপের এই ঘটনার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের পাবনার ঈশ্বরদীতে। সেখানে এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি আক্তার ৮টি সদ্যজাত কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন। মা কুকুরটির আর্তনাদ স্থানীয়দের বিবেক নাড়া দিলেও মন গলেনি ওই নারীর।
বিবেকের আয়নায় মানুষ একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনা মানুষ ও প্রাণীর আচরণের এক ভয়াবহ বৈপরীত্য তুলে ধরেছে।
নবদ্বীপে: কুকুর প্রমাণ করল, মাতৃত্ব বা মমতা শুধু মানুষের একার সম্পদ নয়। তারা জাত-পাত বিচার না করে একটি মানবশিশুকে মায়ের স্নেহে আগলে রাখল।
ঈশ্বরদীতে: সৃষ্টির সেরা জীব বলে দাবি করা মানুষ তুচ্ছ কারণে হত্যা করল ৮টি প্রাণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা লিখছেন, নবদ্বীপের কুকুরগুলো আমাদের শিখিয়ে দিল ‘মানুষ’ হওয়া মানে শুধু দুই পায়ে হাঁটা নয়, বরং হৃদয়ে মমতা ধারণ করা। আর পাবনার ঘটনা আমাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানবিকতা হারিয়ে আমরা কতটা নিচে নামতে পারি।
প্রতিবেদক
ফিচার ডেস্ক